ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, মোট ৩৪

ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিল্পী বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৪ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে নতুন করে ৩৭ জন ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৫ জন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিল্পী বেগম গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৮ অক্টোবর) তাঁর মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিল্পী বেগম ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁর ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ছিল। ডেঙ্গুর এসব জটিলতা রোগীর শারীরিক অবস্থাকে দ্রুত সংকটাপন্ন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের কারণে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ডায়াবেটিসের মতো আগে থেকে থাকা রোগের কারণে চিকিৎসা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে।

হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা ফয়সাল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ৩৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১১৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৪ হাজার ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর কমে যাওয়ার পরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেও এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই শুধু নোংরা পানি অপসারণ নয়, যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যুর ঘটনা রোগটির ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। নতুন রোগী শনাক্ত, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর হলে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা ডেঙ্গুর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।