রুশ সংবাদমাধ্যম তাসের সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় মোট ছয়টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে হুথি বাহিনী। এসব অভিযানে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইয়াহিয়া সারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়ানবু এলাকায় অবস্থিত সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা। একই সঙ্গে দেশটির পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শাইবাহ তেলক্ষেত্রেও হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। এসব স্থানে হামলার পর আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছেন গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র। তবে আগুনের ব্যাপ্তি, স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি কিংবা জ্বালানি উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও সামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে হুথিরা। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত এলাকার একটি বিমানঘাঁটিও অভিযানের লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, একটি নৌঘাঁটি এবং কয়েকটি রাডার স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব স্থাপনায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে কিংবা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার দাবি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশটির তেল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এসব স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হলে তা শুধু সৌদি আরবের জ্বালানি খাতেই নয়, আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এবারের কথিত হামলার কারণে উৎপাদন বা সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
একইভাবে বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি ও রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে হামলার বিষয়ে হুথিদের দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া, হামলায় হতাহতের সংখ্যা এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও তাসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে গোষ্ঠীটির দাবির ভিত্তিতে হামলার সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।



