খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ছাড়িয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মাসের শেষ পর্যন্ত প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়াবে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.৫৭ বিলিয়ন ডলার। ব্যাংক থেকে ডলার ক্রয় ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ এখন প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক অনুষ্ঠানে বলেন, “ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত রিজার্ভ ৩৪–৩৫ বিলিয়ন ডলার পৌঁছাবে। এটি কোনো আন্তর্জাতিক ঋণ বা তহবিলের ওপর নির্ভর করবে না। দেশের ভেতর থেকে ডলার কিনেই রিজার্ভ বৃদ্ধি করা হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।”
| সময়কাল | প্রবাসী আয় | গত বছরের একই সময় | বৃদ্ধি (%) |
| ১–১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | 2,007,000,000 (২০০ কোটি ডলার) | 1,760,000,000 (১৭৬ কোটি ডলার) | 14% |
| ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | 17,700,000 (১৭.৭ কোটি ডলার) | – | – |
| জুলাই–১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | 1,505,000,000 (১,৫০৫ কোটি ডলার) | 1,290,000,000 (১,২৯০ কোটি ডলার) | 16.7% |
| নভেম্বর ২০২৫ | 288,950,000 (২৮৮.৯৫ কোটি ডলার) | – | – |
| ২০২৪-২৫ অর্থবছর (মোট) | 3,033,000,000 (৩,০৩৩ কোটি ডলার) | 2,391,000,000 (২,৩৯১ কোটি ডলার) | 26.8% |
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ১,৫০৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত ১,২৯০ কোটি ডলার থেকে ১৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু নভেম্বর মাসেই দেশে এসেছে ২৮৮.৯৫ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় ৩,০৩৩ কোটি ডলার, যা ২০২৩–২৪ অর্থবছরের ২,৩৯১ কোটি ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বিদায়ী মাসে তা তিন বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। গত মার্চে একক মাসে রেকর্ড হয়েছে ৩২৯ কোটি ডলার, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এরপর কোনো মাসে ৩০০ কোটি ডলার ছাড়ানো হয়নি। তবে চলতি ডিসেম্বর মাসে সেই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা প্রবাসী আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও স্বস্তিতে আছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও দৃঢ় হয়েছে।