খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে পৌষ ১৪৩২ | ২০ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ ওসমান হাদীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর ও বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক হলেন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাজিন আফরোজ শাহ।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সাময়িক অব্যাহতির আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না—সে বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এনাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মোতাহার হোসেন ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত নোটিসে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শহীদ শরীফ মোহাম্মদ ওসমান হাদীকে নিয়ে “আপত্তিকর, অশালীন ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী” মন্তব্য করায় তাকে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। নোটিস অনুযায়ী, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে অব্যাহতির আদেশ কার্যকর হয়েছে।
নোটিসের অনুলিপি কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক (অর্থ), মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং হিসাব রক্ষণ শাখায় পাঠানো হয়েছে—যা বিষয়টির গুরুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ‘নিপুন হাজরা’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওসমান হাদীর মৃত্যু নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দেওয়া হয়। সেই পোস্টের মন্তব্য ঘরে অধ্যাপক ডা. তাজিন আফরোজ শাহ ওসমান হাদীকে ‘ছ্যাঁচড়া টোকাই’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তার মৃত্যুতে কোনো সহানুভূতি প্রকাশ না করে উল্টো মন্তব্য করেন, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
অনেকেই মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের ভাষা একজন চিকিৎসক ও শিক্ষকের পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, চিকিৎসক সমাজ ও সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ তীব্র সমালোচনা করে।
উল্লেখ্য, এর আগেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ডা. তাজিন আফরোজ শাহ। সর্বশেষ এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্ত চিকিৎসক | অধ্যাপক ডা. তাজিন আফরোজ শাহ |
| পদবি | অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ |
| প্রতিষ্ঠান | এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল |
| অভিযোগ | সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য |
| ভুক্তভোগী | শরীফ মো. ওসমান হাদী |
| শাস্তিমূলক ব্যবস্থা | সাময়িক অব্যাহতি |
| কারণ দর্শানোর সময়সীমা | ৭ কর্মদিবস |
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ না করলে ব্যক্তিগত মতামতও পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির আওতায় পড়ে।