খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। মির্জাপুর থানা এলাকা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই ব্যক্তির নাম মেহেদী হাসান (৩২)। ৩ জুন, বুধবার বিকেলে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার অন্তর্গত শুভুল্যা নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে কর্তব্যরত পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৩২ বছর বয়সী মেহেদী হাসান দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাসির গ্রুপের বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বা সেবার প্রসার (মার্কেটিং) সংক্রান্ত পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হতো। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিহত মেহেদী হাসানের স্থায়ী বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল ও প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেন গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহআলম। দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মেহেদী হাসান কুষ্টিয়ায় তার নিজ বাড়ি হতে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছিলেন। ঢাকায় অবস্থিত তার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করছিলেন।
মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার শুভুল্যা নামক এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা সোনালী পরিবহনের একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে আঘাত করে। বেপরোয়া গতির ওই বাসটি মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে সরাসরি চাপা দিলে চালক মেহেদী হাসান মহাসড়কে ছিটকে পড়েন। বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মহাসড়কে তীব্র গতির কারণে মোটরসাইকেল আরোহী নিজেকে রক্ষা করার কোনো সুযোগ পাননি বলে হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটানোর পরপরই সোনালী পরিবহনের ঘাতক বাসটির চালক অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। চালক পলাতক থাকলেও গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে সোনালী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তা জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িক যান চলাচলের বিঘ্ন ঘটলেও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা হয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য নিয়ে যায়। গোড়াই হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর নিহত মেহেদী হাসানের মরদেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘাতক বাসের পলাতক চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে একটি নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।