খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় ইটভাটার কারণে সৃষ্ট তীব্র বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। সভায় ঢাকা শহরের পরিবেশগত সংকট ও নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল দেশের বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক করণীয়। বিশেষ করে, রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটার কারণে যে মারাত্মক বায়ুদূষণ ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত মাঠপর্যায়ে অভিযান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। ঐতিহ্যবাহী মাটির ইট তৈরির সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব আধুনিক বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশ সহায়ক ব্লক বা ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন কোনো উন্নয়ন বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ও বেপরোয়া ব্যবহার কীভাবে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। হর্ন বাজানোর মাধ্যমে সৃষ্ট তীব্র শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের কঠোর নির্দেশ দেন তারেক রহমান।
শব্দদূষণ রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও সভায় কার্যকর আলোচনা হয়। বর্তমানে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যেভাবে আধুনিক এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে, ঠিক একইভাবে উচ্চমাত্রায় ও অহেতুক হর্ন বাজানো গাড়িগুলো শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো গাড়ি অহেতুক হর্ন বাজালে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে ধরা পড়বে এবং চালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম ও বিশৃঙ্খলা কমাতে তিনি রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরোপুরি চালুরও নির্দেশ দেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী সভায় দেশের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সশরীরে উপস্থিত থেকে এই সংকট সমাধানে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।