গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার সাম্পান রেস্টুরেন্টের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে মহাসড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মিছিল নিয়ে সাম্পান রেস্টুরেন্টের সামনের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এসে অবস্থান নেন। তাদের হাতে ব্যানার ছিল। কিছু সময় ধরে তারা সেখানে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জামায়াত ও বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কের ওপর টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয় এবং যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে অল্প সময়ের জন্য যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের মধ্যে ভোগান্তি তৈরি হয়।
তবে বিক্ষোভকারীরা বেশিক্ষণ মহাসড়কে অবস্থান করেননি। কর্মসূচির একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে আসে বলে জানা গেছে। বিক্ষোভের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে ব্যানার নিয়ে সড়কে মিছিল করেন। পরে তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটান।
তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনার কথাও জানান তিনি।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। ফলে এই মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবরোধ বা অগ্নিসংযোগ স্বল্প সময়ের জন্য হলেও যান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী যানসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কাশিয়ানীর এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, সড়কে আগুন জ্বালানো এবং যান চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এদিকে, বিক্ষোভকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকেনি। বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।



