খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর জের ধরে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ বা এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি লিগ্যাল নোটিশ বা আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার সাহা এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন। দেশের এই ঐতিহ্যবাহী সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও মানহানির প্রতিকার চেয়েই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাঠানো আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি, গৌরব ও দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্মানহানির দায় মেটাতে নোটিশে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক শ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে। তবে এই টাকা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’-এ জমা দেওয়ার জন্য ব্যারিস্টার ফুয়াদকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, ৫২-র রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বীকার্য। এমন একটি জাতীয় আবেগের জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা আইনজীবী অবমাননাকর মন্তব্য করেন, তখন তা সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাবেক শিক্ষার্থীদের মনে গভীর আঘাত হানে।
নোটিশদাতা তন্ময় কুমার সাহা জানান, একজন সচেতন নাগরিক এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে তিনি নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই এই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ একজন আইনজ্ঞ হয়েও কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বললেন, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনি নোটিশে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়ার এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি নোটিশের কোনো সদুত্তর না দেন কিংবা দাবি অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেন, তবে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাসহ অন্যান্য কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদটি প্রকাশের পর সচেতন মহল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত এবং এমন মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে এই ধরনের আইনি প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
মন্তব্য