মাত্র এক ঘণ্টার নোটিশে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনারের। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বিসিবি।
তবে আকস্মিক এই সংবাদ সম্মেলনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে তামিম কী বিষয়ে কথা বলবেন, তা নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল। সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে বিসিবির অধীনে নতুন একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই প্রতিযোগিতার আয়োজনের বিষয়টি এরই মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর থেকেই ছয়টি করপোরেট হাউজকে যুক্ত করে টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন প্রতিযোগিতাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—এতে একাধিক সংস্করণের ক্রিকেট রাখা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার দিনের ক্রিকেটের পাশাপাশি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচও আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ, একই প্রতিযোগিতার কাঠামোর মধ্যে ক্রিকেটের তিনটি সংস্করণে খেলার সুযোগ পাবেন অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটাররা।
নতুন এই আয়োজনের পেছনে কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এর অন্যতম হলো দেশের ক্রিকেটারদের নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মধ্যে রাখা। ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলে খেলোয়াড়দের ম্যাচ অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা বাড়বে। জাতীয় দলের বাইরে থাকা কিংবা জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটারদের জন্যও এমন আয়োজন নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার একটি মঞ্চ হতে পারে।
শুধু ক্রিকেটীয় দিক নয়, খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। জানা গেছে, নতুন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের একটি অংশ বহন করবে সংশ্লিষ্ট করপোরেট প্রতিষ্ঠান। বাকি অংশ দেবে বিসিবি। এতে ক্রিকেটারদের আয় বাড়ার পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশের ক্রিকেটের সম্পৃক্ততাও বাড়তে পারে।
পরিকল্পনাটি শুধু এক বছরের জন্য সীমাবদ্ধ রাখার কথা নয়। চলতি বছর আয়োজনের পর ভবিষ্যতেও প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এটি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে নিয়মিত একটি প্রতিযোগিতা হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।
তবে নতুন টুর্নামেন্ট চালু হলেও দেশের প্রচলিত ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলো বন্ধ বা সংকুচিত করার পরিকল্পনা নেই। বিসিবির নিয়মিত অন্যান্য টুর্নামেন্ট আগের মতোই চলবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ নতুন আয়োজনটি বিদ্যমান ঘরোয়া কাঠামোর বিকল্প নয়; বরং তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিকেটারদের জন্য আরও বেশি ম্যাচ ও আয়ের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই এটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে তামিম ইকবালের হঠাৎ সংবাদ সম্মেলন ডাকায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে আগ্রহ। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে নিয়মিতই কথা বলতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ক্রিকেটীয় নানা প্রসঙ্গের পাশাপাশি নতুন ঘরোয়া প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বিশেষ করে ছয়টি করপোরেট হাউজকে নিয়ে তিন সংস্করণের ক্রিকেট আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কাঠামো কী হবে, ক্রিকেটার নির্বাচন ও পারিশ্রমিকের পদ্ধতি কেমন হবে—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে নতুন টুর্নামেন্টটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকেই প্রতিযোগিতাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তবে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা পর্যন্ত এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন তামিম ইকবালের সংবাদ সম্মেলনের দিকেই তাকিয়ে দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।



