খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৯:২৫ এএম
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারীরা, আর সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন বাংলাদেশের পেসাররা। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ।
প্রথম ওয়ানডেতে বোলিং বিভাগ প্রত্যাশা পূরণ করলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হার দেখতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচটি কার্যত সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে পরিণত হয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দে দেখা যায় বাংলাদেশের বোলারদের। নতুন বলে ধারাবাহিক লাইন-লেংথ বজায় রেখে তারা জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের স্বাভাবিক খেলতে দেননি।
বাংলাদেশের হয়ে স্বপ্নের সূচনা এনে দেন ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তিনি ফিরিয়ে দেন ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে। ম্যাচের শুরুতেই এই সাফল্য জিম্বাবুয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তার শিকার হন ইনোসেন্ট কাইয়া। দুই ওপেনারকে দ্রুত বিদায় করে বাংলাদেশের জন্য শক্ত ভিত গড়ে দেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
তাসকিনের ধারাবাহিক আক্রমণের পর আরেক পেসার নাহিদ রানা যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। ইনিংসের নবম ওভারে তিনি জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটার ও অধিনায়ক ক্রেগ আরভিনকে ৯ রানে ফেরান। আরভিনের বিদায়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং আরও চাপে পড়ে এবং বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নিতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের ১১.৪ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৪৫ রান। বাংলাদেশের বোলাররা কেবল উইকেটই নেননি, রান তোলার গতিও নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। নতুন বলের কার্যকর ব্যবহার, সঠিক লাইন-লেংথ এবং ধারাবাহিক চাপ ধরে রাখার ফলে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা বড় কোনো জুটি গড়ার সুযোগ পাননি।
এই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের কারণে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হার মানেই সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যেত। তাই সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে দল, আর শুরুতেই বোলারদের দাপুটে পারফরম্যান্স সেই লক্ষ্যে বড় আশা জাগায়।
এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে মধ্য ও শেষের ওভারগুলোতেও একই শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং ধরে রেখে জিম্বাবুয়েকে যত কম রানে আটকে দেওয়া। অন্যদিকে, স্বাগতিকদের আশা থাকবে মধ্যক্রমের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়া। ম্যাচের প্রথম ভাগে অবশ্য সব আলো কেড়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররাই, যাদের আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরুতেই বড় চাপে পড়ে গেছে জিম্বাবুয়ে।
মন্তব্য