খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৯:৩৫ এএম
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় হার সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে প্রতিদিনের বিনিময় হার শুধু ব্যবসায়ী বা ব্যাংকিং খাতের জন্যই নয়, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি, শিক্ষার্থী, ভ্রমণকারী এবং আমদানিনির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ—
| মুদ্রার নাম | বাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার |
|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা |
| ইউরো | ১৪০ টাকা ২২ পয়সা |
| পাউন্ড স্টার্লিং | ১৬৪ টাকা ৪৪ পয়সা |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৫ টাকা ১১ পয়সা |
| চাইনিজ ইয়েন | ১৮ টাকা ০৪ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরি ডলার | ৯৪ টাকা ৯২ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৮ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত | ৩০ টাকা ২০ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল | ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল | ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার | ৩৯৭ টাকা ৪৪ পয়সা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম | ৩৩ টাকা ৫১ পয়সা |
দেশীয় আর্থিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মান সীমিত পরিসরে ওঠানামা করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ—এসব বিষয় প্রতিদিনের বিনিময় হারে প্রভাব ফেলে। এ কারণে ব্যাংকভেদে একই দিনে বিনিময় হারে সামান্য পার্থক্যও দেখা যেতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবিড় তদারকি এবং প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নির্ধারিত বিনিময় হার ও খোলাবাজারের দামের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে, যা আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক মাসে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার প্রায় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই সীমিত পরিবর্তন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, আমদানি ব্যয়ের হিসাব এবং আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধে কিছুটা পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও আগামী দিনে বিনিময় হারে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের পরিবর্তনের কারণে দিনের বিভিন্ন সময় বা ব্যাংকভেদে বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বৈদেশিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিনিময় হার যাচাই করা বাঞ্ছনীয়।
মন্তব্য