খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক নারী নিহতের ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মেঘনা থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মাইনুদ্দিন (৪০), মো. হান্নান (২৬), কাশেম বেপারী (৬০) ও মো. রানা (২১)। তারা সবাই তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত একটি চরের মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী অধিবাসীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধে যায়। দেশীয় অস্ত্র ও টেঁটা নিয়ে উভয় পক্ষের শত শত লোক এই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই টেঁটাযুদ্ধে সীমান্ত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর গ্রামের কুহিনূর আক্তার (৩৮) নামে এক নারী গলায় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনা ও তিতাস—এই দুই উপজেলার তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান চর বিনোদপুর গ্রামের কুহিনূর আক্তার। ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয় এবং রাতেই অভিযান চালিয়ে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর এলাকা থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা থানার ওসি বলেন, ঘটনার পর পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে এজাহার তৈরির কাজ চলছে, এজাহার হাতে পাওয়া মাত্রই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নথিভুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক জানান, সহিংসতা এড়াতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চরভাটেরা এলাকায় ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ পুলিশ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে মেঘনা অংশের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।