হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে মুনিরা খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ফরহাদ হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মুনিরা খাতুন নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার অমরপুর গ্রামের মাসুদের মেয়ে। আটক ফরহাদ হোসেন জয়পুরহাট জেলার আটুল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে মুনিরা খাতুন তার বোন মহসিনার সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এদিকে তার স্বামী ফরহাদ হোসেন আগের দিন রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন। সকালে মুনিরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেছেন জানতে পেরে ফরহাদ সেখানে চলে যান।
হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে ফরহাদ তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ফরহাদ হোসেন হঠাৎ মুনিরা খাতুনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি বুক ও পেটে গুরুতর জখম হন।
ছুরিকাঘাতে আহত মুনিরাকে দ্রুত ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ফরহাদ হোসেন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ঘটনাটি এমন একটি স্থানে ঘটেছে যেখানে সাধারণত রোগী ও স্বজনদের ভিড় থাকে এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ধামইরহাট থানার কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকেই ফরহাদ হোসেনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর পেছনের বিস্তারিত বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দাম্পত্য কলহের বিষয়টি সামনে এলেও ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে ঝগড়া থেকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হতে পারে।
একজন নারী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে নিজের স্বামীর হাতে প্রাণ হারানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুনিরার মৃত্যু তার পরিবার ও স্বজনদের জন্য যেমন মর্মান্তিক, তেমনি ঘটনাটি দাম্পত্য বিরোধের ভয়াবহ পরিণতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।