খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল থাকার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিনি ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে ইসরায়েলের আরবি ভাষার সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে জানানো হয়েছে।
সফরকালে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এটি নেতানিয়াহুর সপ্তম বৈঠক হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার তুলনায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হবে। দুই নেতার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, গাজা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের আলোচনাও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো তাঁর বিরুদ্ধে বহাল থাকা আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধের সময় সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। আইসিসির অভিযোগের মধ্যে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং আইসিসির এখতিয়ার ও সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে।
আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়। ফলে মার্কিন ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর সফর নিয়ে আদালতের পরোয়ানা কার্যকরের প্রশ্নটি অন্য দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে পড়ে। এ কারণে তাঁর ওয়াশিংটন সফর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর এই অবস্থান সফরটিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ এবং সেখানে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে সমালোচনা রয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠকে গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং দুই দেশের পারস্পরিক কৌশলগত সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি ও সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গাজা সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড, মানবিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।