গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, আটক স্ত্রী-শ্বশুর
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির সংলগ্ন একটি পুকুরে মাহমুদুল ইসলামের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত বিএম মাহমুদুল ইসলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম হায়দার আলী ভূঁইয়া। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৬ ব্যাটালিয়নে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মসূত্রে তিনি গোপালগঞ্জের বাইরে দায়িত্ব পালন করলেও পারিবারিক কারণে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পুলিশ নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তাঁদের সঙ্গে মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, মরদেহ উদ্ধার এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুর আগে মাহমুদুল ইসলামের অবস্থান, তাঁর গতিবিধি এবং পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুকুরে তাঁর মরদেহ কীভাবে গেল, তিনি সেখানে কীভাবে পৌঁছেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্য ও পারিপার্শ্বিক আলামত বিশ্লেষণ করে পুলিশ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে একজন কর্মরত পুলিশ সদস্যের এভাবে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান করা সমীচীন নয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।