খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
৩০ জুলাই সারা দেশে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ফলে নির্ধারিত ওই দিনে দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে এবং গ্রাহকেরা আগের মতোই সেবা নিতে পারবেন।
সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তারা জানান, দেশজুড়ে চলমান গ্যাসসংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৩০ জুলাইয়ের ধর্মঘট বা স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা। এতে ওই দিন সিএনজিচালিত যানবাহনের জ্বালানি সংগ্রহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তা দূর হলো।
এর আগে কমিশন বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য সমন্বয় এবং বিভিন্ন সরকারি ফি কমানোসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি। কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সিএনজি স্টেশন মালিকদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও তাদের চার দফা দাবি থেকে তারা সরে আসছেন না। দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ২৩ আগস্ট থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সিএনজি স্টেশন মালিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন বাড়ানো। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে ৮ টাকা কমিশন পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি তা বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, পরিচালন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি, রক্ষণাবেক্ষণসহ স্টেশন পরিচালনার বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান কমিশন কাঠামোয় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দ্বিতীয় দাবিতে ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্য বাড়লে সিএনজি বিক্রেতাদের কমিশনও যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হয়, সেই ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, জ্বালানির দাম পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যবসায়িক ব্যয় ও আর্থিক বাস্তবতা বদলে যায়। তাই কমিশন সমন্বয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা সহজ হবে।
তৃতীয় দাবিতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
চার দফা দাবির বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সিএনজি স্টেশন মালিকদের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ফলে সিএনজিনির্ভর পরিবহনব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তি ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালক-শ্রমিক এবং যাত্রীদের জন্য ওই দিন জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ বিঘ্ন তৈরি হবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য মালিকদের উত্থাপিত চার দফা দাবি কীভাবে বিবেচনা করা হবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।