ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই শক্তিশালী প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে এক বড় চমক দেখাল নামিবিয়া। ঘরের মাঠে অসাধারণ বোলিং ও নিয়ন্ত্রিত নৈপুণ্যে সফরকারী ডাচ-প্রোটিয়াদের ১৮ রানে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
শুক্রবার উইন্ডহুকের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ পায় নামিবিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানের এক চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। জবাবে ১৬৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রোটিয়ারা পথ হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ১৪৫ রানেই শেষ হয়ে যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস।
নামিবিয়ার ব্যাটিং ইনিংসে সূচনাটা ছিল দারুণ আশা জাগানিয়া। দুই ওপেনার লরেন স্টেনক্যাম্প ও জান ফ্রাইলিঙ্ক উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৫৮ বলে ৮৪ রান তুলে নেন। স্টেনক্যাম্প ২৯ বলে ৪১ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ফ্রাইলিংক ও অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস মিলে দলের খাতায় আরও ৩২ রান যোগ করেন। একপর্যায়ে ১৩.৫ ওভারে দলীয় রান যখন ১১৬, তখন হুট করেই ছন্দপতন ঘটে। নামিবিয়া চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে দ্রুত ৫টি উইকেট হারিয়ে তারা ১৩৩ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয়। তবে শেষ দিকে দলের নিচের সারির ব্যাটারদের ছোট কিন্তু কার্যকরী কিছু বাউন্ডারিতে ভর করে সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১৬৩ রানে।
১৬৪ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে প্রোটিয়াদের শুরুটা ছিল খুবই হতাশাজনক। নামিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের মুখে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভার শেষ হতে না হতেই মাত্র ৩৪ রান তুলে ২ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। সপ্তম ওভারে তারকা ব্যাটার টনি ডি জর্জি সাজঘরে ফিরে গেলে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি।
একপ্রান্ত আগলে রেখে সফরকারীদের জয়ের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন উদীয়মান তারকা ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ৫০ বলে ৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে প্রোটিয়াদের জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তিনি। চমৎকার এই ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ব্রেভিসের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক।
তবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে ১৮তম ওভারে। ব্রেভিস বাউন্ডারিতে ধরা পড়লে ম্যাচের পুরো লাগাম চলে যায় নামিবিয়ার হাতছানিতে। শেষ দুই ওভারে জিততে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ৩১ রান, আর হাতে ছিল ৩ উইকেট। শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ঠান্ডা মাথায় বোলিং পরিচালনা করেন নামিবিয়ার বোলাররা। শেষ ১২ বলে তারা দেন মাত্র ১২ রান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলা স্তব্ধ করে দেয়।
প্রোটিয়াদের মতো পরাশক্তিকে হারানোর ঘটনা নামিবিয়ার জন্য এবারই প্রথম নয়। গত ১০ মাসের মধ্যে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়ের কীর্তি। সহযোগী কোনো দেশের পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে টানা এভাবে হারানোর অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের মানসিক শক্তিরই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যে পরবর্তী ম্যাচে আগামী রবিবার একই মাঠে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।



