নোয়াখালী সদর উপজেলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্থানীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৭টা পর্যন্ত অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিদিমণি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন প্রাঙ্গণ পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। এ সময় প্রধান সড়কে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘাত শুরু হলে সোনাপুর-বসুরহাট সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ এমন সহিংসতায় চরম দুর্ভোগ ও উদ্বেগে পড়েন সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া ও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। নবগঠিত কমিটির সমর্থক এবং পদবঞ্চিতদের এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে পুরো এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বাজারে মুখোমুখি হলে প্রথমে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি থেকে শুরু করে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভয়ে আশপাশের দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে। এলাকায় ফের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।



