দাম বাড়তে বাড়তে সবজি এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে

শীতের আগমনী বার্তা মিলতে শুরু করলেও রাজধানীর বাজারে তার কোনো স্বস্তির প্রভাব এখনও দেখা যাচ্ছে না। বরং অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এর সঙ্গে নতুন করে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের তুলনায় বেশ চড়া। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সবজির বাজারে চড়া দাম

বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১২০ টাকা দরে। শিমের দাম সবচেয়ে বেশি—প্রতি কেজি ২০০ টাকা। দেশি শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কাকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পটল, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙা ৮০ টাকা করে, বরবটি ৯০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি লাউ কিনতেও ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

শীতের আগমনীতে বাজারে জলপাই উঠতে শুরু করেছে। তবে মৌসুমি এই ফলেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি জলপাই বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচের দামও রয়েছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।

বাজার করতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরীয়ত উল্লাহ বলেন, বাজারের খরচ সামলানো দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগে টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতে পারলেও এখন বাড়ি থেকেও টাকা নিতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।

সবজি বিক্রেতা আকাশ রহমান বলেন, বিক্রেতারাও কম দামে পণ্য বিক্রি করতে চান। কিন্তু আড়ত বা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম কমানোর সুযোগ থাকে না। তার আশা, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লে সামনে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।

মুরগির দাম স্থির, বাড়ল ডিম

সবজির পাশাপাশি ডিমের দামেও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৬০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ টাকা। অর্থাৎ আগের তুলনায় ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে ডিমের দাম। চারটি ডিম কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা।

তবে মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং কক মুরগি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি।

ডিম বিক্রেতা আদনান মিয়া বলেন, তারা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কেন ডিমের দাম বাড়ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ তাদের জানা নেই। তবে বাজারে অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব ডিমের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

মাছের বাজারেও বাড়তি চাপ

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। আকার ও মানভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। রুই ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাতল ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কৈ মাছ ২৬০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা শেখ রাসেল বলেন, আগে বাজারে এসে প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ কিনতেন। এখন প্রতিটি পণ্য কেনার আগে দাম হিসাব করতে হচ্ছে। শুধু মাছ নয়, সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো স্বাভাবিকভাবে বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর বাজারের এই পরিস্থিতিতে একদিকে ক্রেতাদের মাসিক ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সবজি, ডিম, মাছ ও মাংসের মতো প্রতিদিনের খাবারের পণ্যে একসঙ্গে চাপ তৈরি হওয়ায় পরিবারের মোট বাজার খরচও দ্রুত বাড়ছে। শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ার পর দাম কিছুটা কমে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ক্রেতারা।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।