কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আশিকুল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন তাঁকে মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান, একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি এলাকার মারাকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষার্থীটি বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর অভিযোগটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁরা মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে ঘিরে রাখেন।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদ্রাসায় যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে নিরাপদে হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
পুলিশ অধ্যক্ষকে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি তাঁকে মারধরের চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ওসি খালিদুর রহমান, একজন এএসআই এবং একজন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত এএসআই তুলনামূলকভাবে বেশি আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।
বাবার অভিযোগ, আগেও এমন আচরণ করতেন অধ্যক্ষ
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, অধ্যক্ষ তাঁর ছেলের সঙ্গে মাঝেমধ্যে এ ধরনের আচরণ করতেন। পরে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে তাঁকে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়।
তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রী চার বছর আগে মারা গেছেন। ছেলেকে হাফেজ করার স্বপ্ন ছিল তাঁর স্ত্রীর। সেই কারণে চার বছর ধরে ছেলেকে মাদ্রাসাটিতে রেখে পড়াচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে তাঁর ছেলে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীর বাবা। একই সঙ্গে সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অধ্যক্ষ পুলিশের হেফাজতে
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আশিকুল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি যশোরের বাসিন্দা। মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটি গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ি রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে তিনি নিজে, একজন এএসআই ও একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এএসআইয়ের আঘাত তুলনামূলক বেশি হলেও তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি জানান, চিকিৎসা নিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে এসেছেন। ঘটনার সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। অধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।


