খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ এএম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ১ জুলাই থেকে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি, তবু প্রাথমিক খসড়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠে এসেছে। এবার আগের মতো সব ধাপে সমান হারে বেতন বৃদ্ধি না করে ধাপভেদে ভিন্ন হার নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এটি চূড়ান্ত হতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে।
প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে বিংশ ধাপ পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতনের পাঁচ শতাংশ। পঞ্চম ধাপে এটি চার শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপে দুই দশমিক পঁচাত্তর শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম ধাপের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে সব ধাপে গড়ে পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর রয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে জানা গেছে, নতুন কাঠামো নির্ধারণের আগে বড় পরিসরে মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এতে এক লাখ সাইত্রিশ হাজার পাঁচশত সরকারি কর্মচারী, একষট্টি হাজার পাঁচশত সাধারণ নাগরিক এবং তিন হাজার পাঁচশত তেরোটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান অংশ নেন। জরিপে মাত্র পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান বেতন বৃদ্ধির পদ্ধতি বজায় রাখার পক্ষে মত দেন।
অন্যদিকে অর্ধেকেরও বেশি অংশগ্রহণকারী, অর্থাৎ প্রায় পঞ্চাশ দশমিক তেতাল্লিশ শতাংশ মানুষ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। আবার প্রায় একত্রিশ দশমিক চুয়ান্ন শতাংশ মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ হার ঠিক করা উচিত। এছাড়া প্রায় আটান্ন শতাংশ অংশগ্রহণকারী নিম্ন ধাপের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবে চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা কমিয়ে তিন হাজার টাকায় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্তানদের শিক্ষা ভাতাও কমিশনের প্রস্তাবিত দুই হাজার টাকার পরিবর্তে এক হাজার পাঁচশত টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মূল বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি থাকলেও কয়েকটি ভাতার হার কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় কিছুটা কমানো হয়েছে। তবে বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় সব ধরনের ভাতা বৃদ্ধি পাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে শুধু নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। ভাতাগুলো পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে সর্বনিম্ন ধাপের একজন কর্মচারীর মূল বেতন আট হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকা। বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হয়ে তার মোট প্রাপ্তি প্রায় ষোল হাজার নয়শত পঞ্চাশ টাকা। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সেই ধাপে মূল বেতন বিশ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে এবং ভাতা যুক্ত হয়ে মোট আয় বেড়ে প্রায় একচল্লিশ হাজার নয়শত আট টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
একইভাবে অন্য সব ধাপেও বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি পাবে। তবে উচ্চ ধাপগুলোর ক্ষেত্রে ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কাঠামোগত ভারসাম্য বজায় থাকে। যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা, ধোলাই ভাতা ও টিফিন ভাতার মতো সুবিধা মূলত নিম্ন ও মধ্য ধাপের কর্মচারীরাই বেশি পেয়ে থাকেন—এ বিষয়টিও নতুন কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য