খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আলিনুর ফকির (৩০) নামের এক যুবককে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আলিনুর ফকির কুমড়ডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলিনুর ফকির দীর্ঘদিন ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করে আসছিলেন। একই গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখের ছেলে রাজিব শেখের কাছে তিনি কিছু টাকা পাওনা ছিলেন। শনিবার রাতে আলিনুর কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় রাজিব শেখ সেখানে এলে আলিনুর তার কাছে বকেয়া পাওনা টাকা পরিশোধ করার দাবি জানান। টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
বিতণ্ডার একপর্যায়ে রাজিব চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নিজের কাছে থাকা ধারাল ছুরি বের করে আলিনুরের পেটে সজোরে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতে আলিনুরের পেট কেটে মারাত্মক জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আলিনুরের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই অভিযুক্ত রাজিব শেখ ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় আলিনুরকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল রাতেই হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহসহ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজিব শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় এই বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। পাওনা টাকার বাইরেও অন্য কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত রাজিবকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।