খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক বালু ব্যবসায়ীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। কেবল মারধরই নয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ীর কানের একাংশ কামড়ে মারাত্মক জখম করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে পলাশের ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নির্যাতনের শিকার সাখাওয়াত হোসেন বর্তমানে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকার ফিরোজ আলীর ছেলে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিএনপি নেতার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়া ওই ব্যবসায়ীর কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ছাড়া পিটুনির কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঘোড়াশাল বাংলাদেশ জুটমিলের ভেতরে টিকে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের বালু ভরাটের কাজ করছিলেন তিনি। এই কাজের জন্য তিনি মিল সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে একটি ড্রেজার মেশিন স্থাপন করেন। সোমবার বিকেলে ড্রেজার মেশিনের শ্রমিকদের হাজিরা ও বেতন পরিশোধ করে তিনি নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে ঘোড়াশাল জুটমিলের সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন যুবক এসে তাঁর গতিপথ রোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবকেরা সাখাওয়াতকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে তাঁকে দীর্ঘ এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এরপর মহিউদ্দিন চিশতিয়া ও তাঁর সহযোগী আরও ৬-৭ জন লোক সাখাওয়াতকে ঘিরে ধরে উপর্যুপরি কিল-ঘুসি ও চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন।
নির্যাতনের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়া হুংকার দিয়ে জানতে চান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে না জানিয়ে এবং অনুমতি না নিয়ে কেন সেখানে ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। এই কথা বলার পরপরই তিনি সাখাওয়াতের ওপর চড়াও হন এবং তাঁর ডান কানে সজোরে কামড় বসিয়ে দেন। এতে কান কেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। মারধর শেষে অভিযুক্তরা ওই ব্যবসায়ীকে হুঁশিয়ারি দেন যে, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজার মেশিনটি নদী থেকে সরিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। অন্যথায় তাঁকে আরও বড় ধরনের মাশুল গুনতে হবে বলে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আমি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত কথা বলব।”
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়েই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা আহত ব্যবসায়ীর খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।