খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩২ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঠিক কী কারণে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। নিহত যুবকের নাম নাসির মিয়া (২২)। তিনি রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের জংলী শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রত্যন্ত এই গ্রামে এমন একটি হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জংলী শিবপুর গ্রামের একটি নির্জন স্থানে একদল লোক নাসিরের ওপর চড়াও হয়। তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। নাসিরের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নাসিরকে উদ্ধার করে দ্রুত রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, অতিরিক্ত আঘাতের কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, নিহতের পরিবার কিংবা স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ-ই এই বর্বরোচিত হামলার আসল কারণ বা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। ঘটনার আকস্মিকতায় নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নাসিরের স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের এবং আশেপাশের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পূর্বশত্রুতা, স্থানীয় কোনো বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য