খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলের জালে মাছের বদলে একটি তাজা গ্রেনেড উঠে এসেছে। বুধবার উপজেলার রাওথা গ্রামের সাইদুর রহমান নামের এক জেলের জালে এই বিপজ্জনক বস্তুটি আটকা পড়ে। পরে প্রশাসনের তৎপরতায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই গ্রেনেডটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, রাজশাহীর চারঘাট থানাধীন রাওথা গ্রামের বাসিন্দা পেশাদার জেলে সাইদুর রহমান প্রতিদিনের মতোই বুধবার পদ্মা নদীতে জাল ফেলেন। দুপুরের দিকে জাল টেনে তোলার সময় তিনি বুঝতে পারেন ভারী কিছু একটা আটকেছে। জাল ওপরে তোলার পর তিনি দেখতে পান কর্দমাক্ত একটি ছোট অথচ বেশ ভারী লোহার বস্তু আটকে রয়েছে। কাদার আবরণে ঢাকা থাকায় প্রথম দেখায় সাইদুর বস্তুটিকে কোনো প্রাচীন বা মূল্যবান ধাতু মনে করেছিলেন। কৌতূহলবশত তিনি গ্রেনেডটি নদীতে ফেলে না দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
বাড়িতে নেওয়ার পর সাইদুর ও তার পরিবারের সদস্যরা কাদা পরিষ্কার করতে শুরু করেন। এ সময় লোহার বস্তুটির অদ্ভুত আকৃতি দেখে সাইদুরের ছেলে সাব্বির রহমানের মনে খটকা লাগে। তিনি বস্তুটির ছবি তুলে ইন্টারনেটে গুগলে সার্চ করেন। গুগলের বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সাব্বির নিশ্চিত হন যে, এটি কোনো প্রাচীন সাধারণ ধাতব বস্তু নয়, বরং একটি যুদ্ধকালীন বোমা বা শক্তিশালী হ্যান্ড গ্রেনেড। বস্তুটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে বুঝতে পেরে পরিবারটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সাব্বির তাৎক্ষণিকভাবে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন এবং ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত জানান।
৯৯৯-এর প্রধান কার্যালয়ে কলটি রিসিভ করেছিলেন কনস্টেবল ইয়াছিন আরাফাত। তিনি ঘটনা শোনার পর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। একই সাথে বিষয়টি দ্রুত চারঘাট থানা পুলিশ, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং জেলা পুলিশ কন্ট্রোলরুমকে জানানো হয়। ৯৯৯-এর পুলিশ ডিসপাচার এসআই আমিনুল ইসলাম তথ্য দেওয়ার পর থেকে কলার ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারঘাট থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত জেলের বাড়িতে ছুটে যান। তারা পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং আশেপাশের মানুষদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে গ্রেনেডটি পুরোনো হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সচল অবস্থায় ছিল। এরপর তারা যথাযথ নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে বিশেষ সতর্কতার সাথে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে জনমানবহীন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটিকে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেন।
নদীতে কীভাবে এই গ্রেনেড এলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয়দের ধারণা, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী বা মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত কোনো গ্রেনেড হয়তো নদীতে তলিয়ে গিয়েছিল, যা এতদিন পানির নিচে কাদার ভেতরে অক্ষত অবস্থায় চাপা পড়ে ছিল। জেলের ছেলের সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি এবং পুরো গ্রাম।
মন্তব্য