চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় গরুবাহী একটি ভটভটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে উল্টে পড়ে এন্তাজুল হক (৫৪) নামের এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার সালালপুর নামোটোলা গ্রামের তোফাজ্জুল হকের সন্তান। এ দুর্ঘটনায় ভটভটিতে থাকা আরও দুই আরোহী এবং দুটি গরু পানিতে পড়ে গেলেও অন্য আরোহীরা প্রাণে রক্ষা পান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২০ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় এন্তাজুল হক ও তাঁর সঙ্গীরা হাট থেকে অবিক্রিত গরু ভটভটিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সানপুর গ্রামের একটি কালভার্টের বাঁকের কাছে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে ভটভটিটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খালে উল্টে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ভটভটিতে থাকা গরুগুলোও ছিটকে পানিতে পড়ে যায় এবং যানটির নিচে চাপা পড়ে যান এন্তাজুল হক। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই সড়ক অংশে কালভার্টের বাঁকটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তবে এ ধরনের বড় দুর্ঘটনা এ এলাকায় তুলনামূলকভাবে কমই ঘটে।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বিষয়
তথ্য
নিহত ব্যক্তি
এন্তাজুল হক (৫৪)
পেশা
কৃষক
গ্রামের নাম
সালালপুর নামোটোলা
উপজেলা
নাচোল
জেলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
দুর্ঘটনার সময়
রাত আনুমানিক ১০টা
দুর্ঘটনার স্থান
সানপুর গ্রামের কালভার্ট সংলগ্ন বাঁক
যানবাহন
গরুবাহী ভটভটি
কারণ
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে উল্টে যাওয়া
আইনগত ব্যবস্থা
অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন
স্থানীয়ভাবে ভটভটি গ্রামীণ পরিবহনের একটি প্রচলিত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভার, অপ্রশস্ত রাস্তা এবং বাঁকযুক্ত কালভার্ট এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানান, হাট থেকে গরু বিক্রির পর বাড়ি ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে তা কেউই কল্পনা করেননি।