মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কাজ আরো গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে দেশের নাটোর, গাইবান্ধা এবং রংপুর—এই তিন জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন এই রদবদলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে কর্মরত উপসচিব মোছা. সুমনী আক্তারকে নাটোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) ড. মো. মনিরুজ্জামান পাচ্ছেন গাইবান্ধার নতুন ডিসির দায়িত্ব। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহানকে রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার একই সিদ্ধান্তেরই অংশ হিসেবে তিন জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসকদের প্রত্যাহার করে নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেদিন নাটোরের ডিসি আসমা শাহীন, গাইবান্ধার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এবং রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল। ওই শূন্য পদগুলোতেই এবার এই তিন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হলো।
জেলা প্রশাসন মূলত জেলা পর্যায়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কার্যালয়, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক। একজন ডিসি একাধারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির মূল বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অক্ষুণ্ণ রাখা, ভুমি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পরিচালনা, জেলার সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি এবং যেকোনো জরুরি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেওয়ার কাজও তাদের পরিচালনা করতে হয়। ফলে মাঠপ্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ পুরো প্রশাসনিক কাঠামোতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। নতুন পদে মনোনীত কর্মকর্তারা দ্রুতই স্ব-স্ব কর্মস্থলে গিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। নতুন এই জেলা প্রশাসকদের পদায়নে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে নাগরিক সেবা প্রাপ্তি এবং সার্বিক প্রশাসনিক গতিশীলতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

