মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেলের বিক্রি বেড়েছে

বিশ্ব রাজনীতির বৈরী পরিবেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার চাপ সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রিতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে ইরান। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি তেল বিক্রি করে প্রায় ৭৫০ কোটি (৭.৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার আয় করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বালানি খাত থেকে অর্জিত এই বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ইতোমধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবাধ্যতামূলক রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে দেশটির তেল বিক্রির মোট রাজস্ব আয় প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া নানামুখী অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক আর্থিক বিধিনিষেধের মাঝেও তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো দেশটির সামগ্রিক ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য এক বিরাট স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ওঠানামার পাশাপাশি কৌশলগত বিপণন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস এবং নতুন নতুন ক্রেতা দেশের কাছে গোপনে তেল পৌঁছে দেওয়ার যে সক্ষমতা তেহরান অর্জন করেছে, তার ফলেই মূলত আয় এভাবে বেড়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বের হয়ে আসতে তেল বিক্রির এই গতিশীলতা ইরানকে বড় ধরনের পথ দেখাচ্ছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করছে যে, বছরের শুরুর প্রথম চার মাসের এই শক্তিশালী ও ইতিবাচক অর্থপ্রবাহ আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারের প্রয়োজনীয় প্রাত্যহিক বৈদেশিক মুদ্রার যাবতীয় রাষ্ট্রীয়, প্রশাসনিক ও পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যয় নির্বিঘ্নে মেটাতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।

আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরে বেশ কিছু প্রত্যক্ষ আর্থিক সুফল দেখা যাবে। একদিকে যেমন স্থানীয় মুদ্রা বাজারের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত সরবরাহ স্বাভাবিক ও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে। এর ফলে সরকারের পক্ষে জরুরি খাদ্যসামগ্রী, কাঁচামাল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় মেটানো আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বৈরী পরিস্থিতিতেও দেশের ভেতরের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক করতে অর্জিত এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর