নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, নিয়মিত মামলার আসামি, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরদারিতে থাকা এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ১২০ জনের মধ্যে ৫৭ জন মাদকসেবী এবং আটজন মাদক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া তিনজন ছিনতাইকারী, ১৯ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং নিয়মিত মামলার ১৪ আসামি রয়েছেন। অন্যান্য আইনে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি একটি সংগঠনের ১৪ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে বেশ কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধারের তথ্যও দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফতুল্লা মডেল থানা এলাকায় ৪৬ কেজি গাঁজাসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই এলাকায় ২০০ পিস ইয়াবাসহ আরও একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই থানার অভিযানে মোট ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অভিযানে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন মাদকসেবী, ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী, একজন ছিনতাইকারী, সাতজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং নিয়মিত মামলার একজন আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া ওই সংগঠনের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জন মাদকসেবী, দুজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং সংগঠনটির একজন সদস্য রয়েছেন।
বন্দর থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে চারজন মাদকসেবী এবং ৫ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইনসহ পাঁচজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ ছাড়া তিনজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও অন্যান্য আইনে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোনারগাঁয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন মাদকসেবী, একজন ছিনতাইকারী, একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং সংগঠনটির দুই সদস্য রয়েছেন। রূপগঞ্জে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৮ জনকে। তাদের মধ্যে নয়জন মাদকসেবী, একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, নিয়মিত মামলার পাঁচ আসামি এবং সংগঠনটির তিন সদস্য রয়েছেন।
আড়াইহাজার থানার অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে সংগঠনটির তিন সদস্য, নিয়মিত মামলার একজন আসামি, অন্যান্য ধারায় তিনজন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একজন রয়েছেন।
পুলিশ বলছে, এ ধরনের অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করা এবং মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিশেষ করে মাদকসংশ্লিষ্ট ৬৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য থেকে বোঝা যায়, অভিযানে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ১২০ জন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


