খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
নারী মরদেহের ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) সময় মৃতদেহের সুরতহাল ও ব্যবচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় নারী ডোম নিয়োগের কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার (১৯ জুলাই) এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ায় নারীদের গোপনীয়তা এবং মর্যাদার সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন। জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের (রেসপনডেন্ট) এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ১৩ জুলাই দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর মর্গে নারী মরদেহের ময়নাতদন্তের কাজে পুরুষ ডোমের পাশাপাশি নারী ডোম বা সহকারী নিয়োগের আইনি বাধ্যবাধকতা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেছিলেন।
আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন বলেন, একজন নারী জীবিতাবস্থায় যেমন শালীনতা ও মর্যাদার অধিকারী, তেমনি মৃত্যুর পরও তার মরদেহ সমান সম্মান ও শালীনতা পাওয়ার যোগ্য। দেশের হাসপাতালগুলোর মর্গে সাধারণত পুরুষ ডোমরাই সব ধরনের মরদেহের ব্যবচ্ছেদ ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কাজগুলো করে থাকেন। কিন্তু কোনো নারীর মরদেহ যখন পুরুষদের দ্বারা ব্যবচ্ছেদ করা হয়, তখন তা ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত মর্যাদার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মর্গে নারী মরদেহের অবমাননার মতো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও সংবেদনশীল অভিযোগও গণমাধ্যমে এসেছে। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এবং নারীদের মরণোত্তর মর্যাদা রক্ষা করতে প্রতিটি মর্গে নারী ডোম নিয়োগ করা জরুরি।
চিকিৎসাশাস্ত্রে ময়নাতদন্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। অস্বাভাবিক, রহস্যজনক বা অপমৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে চিকিৎসকদের সহায়তায় ডোম বা মর্গের সহকারীরা লাশের ব্যবচ্ছেদ করে থাকেন। রিটকারীর মতে, সরকারি উদ্যোগে নারীদের জন্য আলাদা নারী ডোম নিয়োগ দেওয়া হলে ময়নাতদন্তের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং মৃত নারীর পরিবারের সদস্যরাও মানসিকভাবে স্বস্তি পাবেন। হাইকোর্টের এই রুলের পর এখন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।