খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
জাতীয় রাজনীতি ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের জেলাতেই যেখানে মাদক কারবার লাগামহীন, সেখানে তিনি কীভাবে পুরো দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন এই বিরোধীদলীয় নেতা।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে স্থানীয় এক মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশের প্রধান বক্তা নাহিদ ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে ঘটে যাওয়া একটি প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে খোদ জাতীয় সংসদের ভেতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের দলেরই একজন সংসদ সদস্য স্পষ্ট ভাষায় কক্সবাজারকে মাদক কারবারের সূতিকাগার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারি দলের এমপির মুখ থেকেই যখন এই সত্য বেরিয়ে আসে, তখন আর বলার কিছু থাকে না।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি নিজের চারণভূমি বা নিজ জেলাতেই মাদক সিন্ডিকেট ও অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সারাদেশে মাদক নির্মূল করার ঘোষণা নিতান্তই লোকদেখানো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একপ্রকার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে বলব, আগে নিজের এলাকা কক্সবাজারে মাদক কারবার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেখান। ঘরের সমস্যার সমাধান আগে করুন, তারপর সারা বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দেশের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার কাজে হাত দিন। জনগণ মাঠের কাজ দেখতে চায়, শুধু মুখের কথা বা আশ্বাস নয়।”
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাসব্যাপী নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার কালীগঞ্জ থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়, যা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়। পদযাত্রায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কালীগঞ্জের এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এছাড়া স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে উপস্থিত অন্য বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ধারণ করার ওপর বিশেষ জোর দেন। তারা বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সেই গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এনসিপি তাদের দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন সামনের দিনগুলোতেও রাজপথে অব্যাহত রাখবে।