রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি দর্শনার্থীদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে জেলা প্রশাসন রোববার সন্ধ্যায় এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নতুন কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ভ্রমণপিপাসুদের সাজেকে গমনাগমন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে প্রকাশিত এক সরকারি গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষযটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ঐ দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সাজেক ভ্যালি বন্ধের এই আদেশ কার্যকর হয়েছে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী সরাসরি এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড় ও মেঘের অনন্য মিতালীর জন্য পাহাড়ের রানীখ্যাত সাজেক ভ্যালি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের একটি গন্তব্য। দেশের উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় দীঘিনালা থেকে উঁচু-নিচু আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ বেয়ে সাজেকে পৌঁছাতে হয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে সাধারণত দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকবাহী যানবাহনগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সুরক্ষাবেষ্টনী বা এস্কর্টের মাধ্যমে সাজেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফিরিয়ে আনা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাজেক ও আশপাশের পার্বত্য এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সাধারণ ভ্রমণকারীদের সুরক্ষার বিষয়টিই এখানে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন প্রতিরোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন।
আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে বাঘাইছড়ি ও সাজেকগামী পরিবহন মালিক, রিসোর্ট ও হোটেল ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণ পরিকল্পনাকারীদের সাময়িকভাবে বুকিং স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। যেসব পর্যটক পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদেরকে সাজেক অভিমুখে না গিয়ে বিকল্প নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বা পরবর্তী সরকারি আদেশ না হওয়া পর্যন্ত সাজেক সফর স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় জেলা কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও অনুকূলে আসলে সাজেক ভ্যালি পর্যটকদের চলাচলের জন্য আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।


