চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি লেবুর বাগান থেকে তিনটি বালতিতে রাখা মোট ১৭টি ককটেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববারে এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন এড়াতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ সতর্ক অবস্থান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১১ অক্টোবর রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত মুন্সী মণ্ডলটোলা এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। নির্জন এক লেবুর বাগানের ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি সন্দেহজনক প্লাস্টিকের বালতি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। কাছে গিয়ে বালতিগুলোর ভেতর সারিবদ্ধভাবে ককটেল সদৃশ বস্তু রাখা দেখতে পেয়ে তারা কালবিলম্ব না করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
জরুরি ফোন পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কোনো ধরনের অসাবধানতায় যেন বিস্ফোরণ না ঘটে বা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ সাথে সাথে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। তারা পুরো লেবুর বাগান এলাকা চিহ্নিত করে ঘিরে রাখে এবং সাধারণ কৌতূহলী পথচারীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকরামুল হক জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল কর্ডন বা ঘিরে ফেলে। বালতিতে ককটেল সদৃশ ঝুঁকি থাকায় বিশেষায়িত বোম ডিসপোজাল বা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী টিমকে খবর দেওয়া হয়। তাদের পেশাদার উপস্থিতি নিশ্চিত করে নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫)-এর রাজশাহী ক্যাম্পের একটি দক্ষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল রাতে দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। দলটি অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরাপত্তার সাথে অনুসন্ধান চালিয়ে তিনটি বালতি থেকে একে একে মোট ১৭টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে নিরাপদে সেগুলো নিষ্ক্রিয়করণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
র্যাব-৫-এর রাজশাহী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি তরিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধার করা ককটেলগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে কিংবা নাশকতামূলক উদ্দেশ্যে কোনো অসাধু চক্র এই ককটেলগুলো নির্জন বাগানে মজুদ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা এসব বিস্ফোরকদ্রব্য জমা করেছিল এবং এর নেপথ্যে কোনো বড় পরিকল্পনা ছিল কি না, তা উদঘাটনে ইতিমধ্যে জোরালো গোয়েন্দা তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


