খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ২:২১ পিএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় একটি গোরস্থানের জমির মালিকানা ও ওয়াকফ সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের আমগড়া এলাকায় এই সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, রংছাতী ইউনিয়নের আমগড়া এবং প্রতিবেশী পুলিয়া পানেশ্বরপাড়া গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় একটি গোরস্থানের জমি ও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুই গ্রামের অধিবাসীরাই আবহমানকাল ধরে তাদের স্বজনদের মৃতদেহ এই গোরস্থানে দাফন করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি গোরস্থান সংলগ্ন এলাকায় একটি নতুন বাজার গড়ে তোলা এবং এর বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দুই গ্রামের মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে উক্ত জমি নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই গ্রামের কয়েকশো মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমগড়া এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে খোলা রাস্তায়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হাতাহাতি। রাস্তায় আগে থেকেই সড়ক সংস্কার কাজের জন্য স্তূপ করে রাখা ইট-পাটকেল ও পাথর একে অপরের দিকে ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে করে উভয় পক্ষের বিস্তর লোক রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
সংঘর্ষের সময় ইট ও পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত বহু মানুষকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫৬ জন ব্যক্তি হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এবং গভীর ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালসহ অন্যত্র স্থানান্তর (রেফার) করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই কলমাকান্দা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য পাঠিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোরস্থানের জমির সত্ত্ব ও ওয়াকফ সম্পত্তির স্বত্বাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরোধ জমে ছিল। সেই পুরোনো কলহের কারণেই আজকের এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে শক্ত হাতে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এলাকা জুড়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং পুনরায় সহিংসতা রোধে আমগড়া ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য