খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ২:২৩ পিএম
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বাংলাদেশে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস) ছোট আকারের সেল বা সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—এমন উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষজ্ঞদের একটি দল। সংগঠনটি বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম সম্প্রতি আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ১০ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও সক্ষমতা এখনো বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েনি। সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা একিউআইএসও নিজেদের কর্মকৌশলে পরিবর্তন এনেছে। বড় ও দৃশ্যমান ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম, রসদ সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে তারা মনোযোগ দিচ্ছে।
এই কর্মকৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও একিউআইএসের ছোট সাংগঠনিক ইউনিট বা সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল। সংগঠনটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে একিউআইএসের কর্মকাণ্ডের উদাহরণ হিসেবে ভারতের দিল্লির লাল কেল্লায় গত বছরের নভেম্বরের হামলার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, একিউআইএস এখনো জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত নয়। তবে সংগঠনটি ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ (আইএমপি)-এর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইএমপিকে কয়েকটি হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত ৯ মে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে। ওই ঘটনায় ২১ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল-কায়েদার নেতৃত্ব নিয়েও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, একিউআইএসের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থান করছেন। তাদের তালেবান সরকারের দেওয়া ‘তাজকিরা’ বা পরিচয়পত্র রয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়টি তালেবান ও একিউআইএসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মনিটরিং টিম। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা অব্যাহত থাকায় এ অঞ্চলে উত্তেজনা বহাল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, তালেবান সরকার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রেখেছে বলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়ন রয়েছে। যদিও তালেবান প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আশঙ্কা, আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে একিউআইএসের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের এই উদ্বেগ দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।
মন্তব্য