খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ২:২৮ পিএম
নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক গতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। জুলাই মাসে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠিয়েছেন মোট ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট সংগৃহীত প্রবাসী আয়ের বড় একটি অংশই এসেছে মাত্র ১০টি দেশ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের উপাত্ত অনুযায়ী, জুলাইয়ে মোট প্রবাসী আয়ের ৮৬.২৭ শতাংশ বা ২৪৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এসেছে রেমিট্যান্সের শীর্ষে থাকা ১০টি দেশ থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম শ্রমবাজার সৌদি আরব যথারীতি তালিকার শীর্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছে। একক দেশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে সর্বাধিক ৫৮ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার পাঠিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে ২৭ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় পাঠায়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র।
রেমিট্যান্স প্রবাহের সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরতে শীর্ষ ১০টি উৎস দেশের উপাত্ত নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রম | দেশের নাম | প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ (মার্কিন ডলারে) |
| ১ | সৌদি আরব | ৫৮ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার |
| ২ | যুক্তরাজ্য | ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার |
| ৩ | যুক্তরাষ্ট্র | ২৭ কোটি ৩১ লাখ |
| ৪ | সংযুক্ত আরব আমিরাত | ২৫ কোটি ৫৫ লাখ |
| ৫ | ইতালি | ২০ কোটি ৩১ লাখ |
| ৬ | মালয়েশিয়া | ২০ কোটি ১৩ লাখ |
| ৭ | কুয়েত | ১৪ কোটি ৮৭ লাখ |
| ৮ | ওমান | ১৪ কোটি ১৯ লাখ |
| ৯ | সিঙ্গাপুর | ১৩ কোটি ৬৯ লাখ |
| ১০ | কাতার | ১২ কোটি ১৫ লাখ |
শীর্ষ ১০টি দেশের বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য মহাদেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি থেকেই সবচেয়ে বেশি ২০ কোটি ৩১ লাখ ডলার এসেছে। এ ছাড়া ফ্রান্স থেকে ৪ কোটি ৬ লাখ ডলার, পর্তুগাল থেকে ১ কোটি ৮১ লাখ ডলার, গ্রিস থেকে ১ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, স্পেন থেকে ১ কোটি ২২ লাখ ডলার এবং জার্মানি থেকে ১ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
বিশ্বের অন্য প্রান্তের উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশগুলোর অবদানও কম ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, জর্দান থেকে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২ কোটি ৭১ লাখ ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে ২ কোটি ১৩ লাখ ডলার এবং কানাডা থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার সংগৃহীত হয়েছে। শীর্ষ ১০টি দেশ বাদে বিশ্বের অন্যান্য সব দেশ থেকে সম্মিলিতভাবে এসেছে ৩৯ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।
ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রবাসী আয় সংগ্রহকারী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুন্ডি বা অবৈধ পথ পরিহার করে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়ায় অর্থবছরের শুরুতেই এই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। হুন্ডি প্রতিরোধে রেমিট্যান্স পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ ও আধুনিক করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের সূচনায় রেমিট্যান্সের এই জোয়ার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য