নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ১,২৭৩, নিখোঁজ ৪,৭৫৭

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১ হাজার ২৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখনো ৪ হাজার ৭৫৭ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৪৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য থেকে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আকস্মিক বন্যার পর দেশটিতে ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনেরও বেশি। বন্যার পানির তোড়ে বহু মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী চীনের তিব্বত অঞ্চলে বন্যায় আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে দুর্যোগটির প্রভাব স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের ওপরও পড়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবারও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র সংগ্রহ করতেও সময় লাগছে।

উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি বন্যার পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলাতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকা এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সংকট দেখা দিলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিখোঁজদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নেপাল ও তিব্বতের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগে প্রত্যন্ত জনপদ দ্রুত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। এবারের বন্যাতেও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে অনুসন্ধান অভিযান এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।