খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ২:৩৪ পিএম
বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি পরিত্যক্ত ঘরে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর তাঁদের শরীরে আগুন ধরে গেলে প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা বাড়ির পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে মৃত শাহা আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শাহা আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম (৬০), তাঁর ছোট মেয়ে ইতি আক্তার (১৯) এবং মেজো মেয়ের ছেলে ফাহিম (১৪)।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির একটি পরিত্যক্ত লাকড়ি রাখার ঘরে থাকা বোমা সদৃশ কোনো একটি বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় হনুফা বেগম, ইতি আক্তার ও ফাহিম বাড়ির উঠানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আগুন থেকে বাঁচতে তিনজনই বাড়ির পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন। তাঁদের চিৎকার ও ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে আহত তিনজনকে নদী থেকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তারিকুল জানান, আহত তিনজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধের ক্ষত রয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিস্ফোরণের আকস্মিকতায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিত্যক্ত ঘরটিতে কীভাবে ওই বোমা সদৃশ বস্তু এল, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরাও কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বস্তুটি সেখানে কতদিন ধরে ছিল বা কারা সেটি রেখে গেছে, তা নিয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, দুধলমৌ গ্রামে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি বলেন, কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে বস্তুটি পরিত্যক্ত ঘরে রেখে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে বিস্ফোরকটি কী ধরনের ছিল এবং সেটি সেখানে কীভাবে এল, তা জানার পাশাপাশি এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলাউল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকার বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখার পর বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বস্তুটি আসলে কী ধরনের ছিল, সেটি বিস্ফোরক কি না এবং কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, পরিত্যক্ত ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কোনো পরিত্যক্ত স্থানে সন্দেহজনক বা বোমা সদৃশ বস্তু পড়ে থাকলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। পুলিশও ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং বিশেষজ্ঞ দলের পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য