খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ২:২২ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক বিএনপি নেতার গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যার পর ভাইরাল হলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত নেতার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত মিরন জমাদ্দার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন চা দোকানি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিরন জমাদ্দার একটি সিগারেটের ভেতরে গাঁজা ঢোকাচ্ছেন। পরে গাঁজা ভর্তি সিগারেটটি পাশে রেখে তিনি ইয়াবা সেবন করছেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত মিরনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ভিডিওটির বিষয়ে তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মারুফ ভূঁইয়া বলেন, মিরন তাঁকে জানিয়েছেন, ভিডিওটি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের। সে সময় রাজনৈতিক ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে তিনি আওয়ামী লীগের লোকজনের প্ররোচনায় মাদক সেবন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পুরোনো ভিডিওটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মারুফ ভূঁইয়া আরও বলেন, মিরন বর্তমানে মাদক সেবন করেন না এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, কিছুদিন আগেও মিরন কয়েকজন মাদকসেবীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, মিরন নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা তৈরি হলেও এর সত্যতা, ধারণের সময় এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে আইনগতভাবে কোনো তদন্ত বা যাচাইয়ের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি জানান, মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ওই দিনও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সেটি দ্রুত মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ভিডিওটি পুরোনো না সাম্প্রতিক, সেটি কোন প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার মতো তথ্য-প্রমাণ আছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি। ভিডিওটি নিয়ে তদন্ত বা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
মন্তব্য