শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার পাইকসা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গিয়াস উদ্দিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার ঘোনপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ নিয়ে গিয়াস উদ্দিন গোপনে তাদের নগ্ন ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব ভিডিও আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি সাইটে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন তিনি। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দাদের নজরে আসার পর তার আর্থিক লেনদেনও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় তার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সন্দেহজনক বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব লেনদেনের সঙ্গে ভিডিও তৈরি ও বিক্রির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে গিয়াস উদ্দিন নরসিংদীর মাধবদী এলাকার আগের বাসা ছেড়ে ঘোড়াশালের পাইকসা এলাকায় একটি নতুন ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। সেখানে অবস্থান পরিবর্তন করেও তিনি গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে থাকতে পারেননি।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের চলাচল ও তাদের ব্যবহৃত গাড়ির ওপর নজরদারি চালিয়ে পলাশ থানা-পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গিয়াস উদ্দিনকে আটক করা হয়।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্তকে আটক করার পাশাপাশি তার ভাড়া বাসা থেকে পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব সামগ্রী তদন্তের কাজে ব্যবহার করা হবে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে সরবরাহের পেছনে কোনো সহযোগী চক্র কাজ করেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো অর্থের বিনিময়ে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ গুরুতর অপরাধের ইঙ্গিত দেয়। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, ভিডিওগুলোর উৎস এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও এখন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


