চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেছেন চট্টগ্রামের একদল সাংবাদিক। সাংবাদিক রাজুর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগে তাঁর বয়কটের আহ্বান জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পরীমণির আচরণের নিন্দা জানান এবং একজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়া বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের কাছে সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পৌঁছে দেওয়া। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি। কোনো সাংবাদিককে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অপমান বা হেনস্তার শিকার হতে হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং জনগণের জানার অধিকারের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
বক্তারা আরও বলেন, একজন ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় কিংবা তারকাখ্যাতি তাঁকে অন্যের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করার অধিকার দেয় না। জনপ্রিয়তা বা পরিচিতির কারণে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।
তাঁরা সাংবাদিকদের মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় দেশের সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্মসূচিতে সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পরে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে উপস্থিত ব্যক্তিরা পরীমণির ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেন। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে বয়কটের আহ্বানও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর জামিন পাওয়ার পর ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক রবিউল হোসেন রাজুর সঙ্গে পরীমণির অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সাংবাদিক রাজুর ওপর চড়াও হন এই চিত্রনায়িকা। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
ঘটনাটি আবারও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অপমানজনক আচরণের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে তৈরি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।


