খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১১:৫ এএম
উত্তর আমেরিকায় চলমান ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় মহারণে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল ও স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তির এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধটা বেশ ভালোভাবেই জমিয়ে তুলেছেন স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্পষ্ট দাবি করেছেন, শক্তির বিচারে পর্তুগিজদের চেয়ে তাদের মাঝমাঠ বা মিডফিল্ড অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে মাঠের এই দ্বৈরথটি মূলত হতে যাচ্ছে বিশ্বসেরা দুই মিডফিল্ডের লড়াই। একদিকে স্পেনের হয়ে মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন ব্যালঁ ডি’অর জয়ী রদ্রি, বার্সেলোনার জাদুকর পেদ্রি এবং আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার দানি ওলমো। অন্যদিকে তাদের রুখে দেওয়ার জন্য পর্তুগাল শিবিরে প্রস্তুত রয়েছে ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস এবং ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো তারকাখচিত ত্রয়ী। ফলে মাঠের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ধারণ করে দেবে এই মাঝমাঠের যুদ্ধ।
এই দুই দলের ফুটবলীয় শত্রুতা বেশ পুরোনো। সবশেষ ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করেছিলেন এক রোমাঞ্চকর লড়াই। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে স্নায়ুযুদ্ধ জিতে উল্লাসে মেতেছিল পর্তুগাল। সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ এখন স্পেনের সামনে।
রোববার ডালাসের ঐতিহাসিক কটন বোল স্টেডিয়ামে দলের অনুশীলনে নামার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রদ্রি। পর্তুগালকে সমীহ করে তিনি বলেন, “ওরা সবসময়ই আমাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ। পর্তুগাল দল আমাদের খুব ভালো করে চেনে, আমরাও ওদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে জানি। আমার তো মনে হয়, পর্তুগাল তাদের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা দল নিয়ে এবার বিশ্বকাপে এসেছে। তাই পরের রাউন্ডে যেতে হলে আমাদের নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে।”
তবে পর্তুগালের মাঝমাঠকে বিশ্বের সেরা বলা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে স্প্যানিশ অধিনায়ক বলেন, “আমার কাছে নিজের দল এবং নিজের মিডফিল্ডই সবসময় সেরা। ওদের দলে একঝাঁক বিশ্বসেরা তারকা ও শীর্ষ সারির খেলোয়াড় রয়েছে, যারা দলগতভাবে দারুণ ফুটবল খেলে। পিচের প্রায় সব পজিশনেই ওদের গভীরতা ও শক্তি আছে, তবে আমরা মাঠে প্রমাণ করতে চাই যে দিনশেষে আমরাই সেরা।”
চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগ এখন পর্যন্ত প্রাচীরের মতো অনড় রয়েছে। আসরে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সবশেষ রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। অন্যদিকে পর্তুগালকে শেষ ষোলোতে আসতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে; তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কাটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল।
নকআউট পর্বে দলের চেনা ছন্দ ফিরে পাওয়া প্রসঙ্গে রদ্রি যোগ করেন, “আমরা আরও ভালো ফুটবল উপহার দিতে পারি। বড় টুর্নামেন্টে কীভাবে খেলতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা আমাদের এই দলের আছে। আমরা জানি ঠিক কোন মুহূর্তে নিজেদের মেলে ধরতে হবে। গ্রুপ পর্বে মূলত দল গুছিয়ে নেওয়া এবং ফল বের করে আনাটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। তবে এখন নকআউট পর্বে এসে স্পেনের আসল রূপ দেখা যাচ্ছে। সামনে বড় কিছু হতে চলেছে।”
২০২৪ সালে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালঁ ডি’অর জেতার পর থেকেই চোটের কারণে বেশ কঠিন সময় পার করতে হয়েছে রদ্রিকে। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকায় এই টুর্নামেন্টের শুরুতে স্প্যানিশ গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে কিছুটা সমালোচনাও হয়েছিল। তবে এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, সব বাধা পেরিয়ে তিনি এখন ধীরে ধীরে নিজের চেনা ছন্দে ফিরছেন। রদ্রি বলেন, “এখন পুরোপুরি ফিট বোধ করছি। ম্যাচের ৯০ মিনিট জুড়েই আমার পারফরম্যান্সের উন্নতি হচ্ছে, আর আমি জানি আসল ম্যাচগুলো এখনই শুরু হচ্ছে। আমাদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ দিন দিন ওপরের দিকে যাবে। পর্তুগালের বিপক্ষে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।”
রদ্রির সুরেই সুর মিলিয়েছেন স্পেনের হেড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। নিজের শিষ্যদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেসও নিশ্চয়ই তার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমার মতোই ভাবেন। আমি জানি প্রতিপক্ষ দল হিসেবে ওরা কতটা অসাধারণ, কিন্তু একজন কোচ হিসেবে আমি মনে করি আমার খেলোয়াড়রাই বিশ্বের সেরা।”
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই মহালড়াই দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গোটা বিশ্ব। ডালাসের মাঠে দুই প্রতিবেশীর এই মহারণটি শুরু হবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
মন্তব্য