খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেটের ঐতিহাসিক ভেন্যু লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে সপ্তমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। দশম আসরের এই টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে দলটি আবারও দেখিয়ে দিল, সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বমঞ্চে তাদের ধারাবাহিকতার সঙ্গে অন্য কোনো দল এখনো পাল্লা দিতে পারেনি।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম শিরোপা। টুর্নামেন্টের আগের নয়টি আসরের মধ্যেও তারা সবচেয়ে সফল দল ছিল, আর এবারের সাফল্যে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে গেল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দল এই প্রতিযোগিতায় দুটি শিরোপাও জিততে পারেনি। ফলে বিশ্বক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের আধিপত্য আরও সুসংহত হলো।
ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান সংগ্রহ করে। শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে পারেননি। তবে অধিনায়ক ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৮ রান করেন। তাঁর সঙ্গে ফ্রেয়া কেম্পের ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস ইংল্যান্ডকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়।
পঞ্চম উইকেটে স্কিভার-ব্রান্ট ও কেম্পের অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটি ইংল্যান্ডের ইনিংসে বড় ভূমিকা রাখে। মাঝের ওভারে কিছুটা চাপে থাকলেও শেষ দিকে তারা দ্রুত রান যোগ করে দলকে ১৫০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যামিল্টন সবচেয়ে সফল বোলার, তিনি ১৯ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেন।
১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই একটি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ১৭ রানে প্রথম ধাক্কা সামলেও দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় সফরকারীরা। দ্বিতীয় উইকেটে বেথ মুনি ও ফিবি লিচফিল্ড দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দুজন মিলে ১০০ রানের বেশি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন।
বেথ মুনি ৪৯ বলে ৬৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন, সময়োপযোগী বাউন্ডারি এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার পরিপক্বতা। অন্যদিকে ফিবি লিচফিল্ড ৩৫ বলে ৪৮ রানের কার্যকর ইনিংস উপহার দিয়ে মুনিকে দারুণ সঙ্গ দেন। তাঁদের জুটিতেই জয়ের ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়।
শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া আর কোনো ভুল না করে ১৭.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান তুলে নেয়। হাতে তখনও ১৭ বল অবশিষ্ট ছিল, যা ফাইনালে তাদের দাপুটে পারফরম্যান্সেরই প্রতিফলন। ইংল্যান্ডের হয়ে সোফি এক্লেসটোন একটি উইকেট নিলেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের থামানোর মতো চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি।
ফাইনালে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলার স্বীকৃতি হিসেবে বেথ মুনি প্লেয়ার অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার জিতেছেন। শুধু ফাইনালেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য তিনিই প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট ৫৮*, ফ্রেয়া কেম্প ৪৪*, অ্যালিস ক্যাপসি ২৩; হ্যামিল্টন ১/১৯)
অস্ট্রেলিয়া: ১৭.১ ওভারে ১৫৩/৩ (বেথ মুনি ৬৪, ফিবি লিচফিল্ড ৪৮; সোফি এক্লেসটোন ১/২৪)
ফল: অস্ট্রেলিয়া নারী দল ৭ উইকেটে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল: বেথ মুনি।
প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: বেথ মুনি।