অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পশ্চিম তীরের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত রামাল্লার উত্তরের জিলজিলিয়া ও মাজরা আল-নুবানি গ্রামে দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার ভোরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল ওই দুই গ্রামে প্রবেশ করে মসজিদে আগুন লাগায় এবং ভবনের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে জিলজিলিয়া গ্রামে। ভোরের দিকে একদল বসতি স্থাপনকারী গ্রামে প্রবেশ করে স্থানীয় মসজিদের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মসজিদের নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনের কারণে ভবনের বাইরের দেয়ালেরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব সংগ্রহ শুরু করেন।
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জিলজিলিয়া এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের দাবি, গত মাসেও একদল বসতি স্থাপনকারী গ্রামে হামলা চালিয়ে একটি ভেড়ার পাল নিয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, এসব ঘটনার কারণে এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
একই দিনে পৃথক আরেকটি ঘটনায় মাজরা আল-নুবানি গ্রামের একটি মসজিদেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে মসজিদের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা আগুন দেওয়ার পাশাপাশি মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লিখে যায়। দুই গ্রামেই হামলার ধরন ও ব্যবহৃত পদ্ধতির মধ্যে মিল থাকায় স্থানীয়রা ঘটনাগুলোকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে দেখছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, সম্পত্তি ধ্বংস, জমি দখল এবং কৃষকদের নিজস্ব জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি বসতিগুলোর আশপাশের এলাকাগুলোতে এসব ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় অধিকারকর্মীরা বলছেন, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা শুধু সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক নিরাপত্তাবোধের ওপরও প্রভাব ফেলে।
পশ্চিম তীরে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, তাতে সহিংসতার ব্যাপকতা প্রতিফলিত হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বহু মানুষ হতাহত, আটক ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সূচক
সংখ্যা
নিহত ফিলিস্তিনি
১,১৬৯ জন
আহত ফিলিস্তিনি
১২,৬৬৬ জন
আটক ব্যক্তি
প্রায় ২৩,০০০ জন
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি
প্রায় ৩৩,০০০ জন
পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ধারাবাহিকতা স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবন, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক দুই মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা সংকটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্থাপনা ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মন্তব্য