বরিশাল নগরীতে ইজিবাইকচালক নাজমুল মোল্লা হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযুক্তদের বসতঘরে আগুন দিলে ঘরটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় বলে জানা যায়।
নিহত নজরুল মোল্লা(২২) নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণফুলিয়া-জাগুয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মোল্লার ছেলে। গত সোমবার দুপুরে কালিজিরা নদীর তেমাথা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরেই বুধবার সকালে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার আরেক অভিযুক্ত ইমরান এখনো পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর চন্ডিপুর এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম, হরিণাফুলিয়া এলাকার ইউনুস হাওলাদারের ছেলে মিরাজ হোসেন, মিরাজ হোসেনের স্ত্রী কামরুন নাহার এবং তার মা ফরিদা বেগম।
গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা
| ক্রম |
নাম |
পিতা/সম্পর্ক |
এলাকা |
| ১ |
সাইফুল ইসলাম |
রুস্তম আলী |
চন্ডিপুর |
| ২ |
মিরাজ হোসেন |
ইউনুস হাওলাদার |
হরিণাফুলিয়া |
| ৩ |
কামরুন নাহার |
মিরাজ হোসেনের স্ত্রী |
হরিণাফুলিয়া |
| ৪ |
ফরিদা বেগম |
মিরাজ হোসেনের মা |
হরিণাফুলিয়া |
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুনুল উল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে, তবে দূরত্ব বেশি থাকায় তারা পৌঁছানোর আগেই বসতঘরটি আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার চারজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা দাবি করেন, গ্রেপ্তারকৃতরা এবং তাদের সহযোগীরাই তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।