ফেনীর পরশুরামে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভিডিও শনিবার রাতে ভাইরাল হলেও ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে।
অভিযুক্ত মো. সায়েম পরশুরাম পৌরসভার দক্ষিণ কোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি যুবদলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক। তবে দলীয় নিয়ম ভেঙে শীর্ষ নেতাদের ছবি দিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন বানানোর অভিযোগে গত ২৫ জুন তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক এক দোকানে ঢুকে দোকানদারকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন এবং মারধর করছেন। মারধরের এক পর্যায়ে একজন বলতে শোনা যায়, ‘আমি ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি, জানস?’
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সুমন জানান, এক বছর আগে তাঁর দোকান ‘মেসার্স সিয়াম স্টোর’ থেকে মো. সায়েম একটি ত্রিপল নিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৯১০ টাকা বাকি রাখেন। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি। গত ৯ জুলাই বিকেলে সায়েম পাশের একটি দোকানে এলে তিনি সরাসরি টাকা চান। এ নিয়ে সেদিন রাতেই সায়েম, তাঁর ভাতিজা ফয়সালসহ আরও কয়েকজন মিলে দোকানে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দোকানির গায়ে থাকা পোশাক টেনে খুলে ফেলা হয় এবং তাঁকে সায়েমের কাছে মাফ চাইতে বাধ্য করা হয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়।
পরশুরাম পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মিসফাকুস সামাদ রনি বলেন, ‘ওই ভিডিও আমরা দেখেছি। শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য সায়েমকে আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে। দল তাঁর কোনো অন্যায় কাজের দায় নেবে না।’
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, ‘ঘটনাটি ৯ জুলাইয়ের। মূলত ব্যবসায়ী তাঁর পাওনা টাকা চাইলে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বণিক সমিতির মাধ্যমে আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে শুনেছি।’
ওসি আরও বলেন, পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে এবং ভুক্তভোগীকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত সায়েমের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
খবরওয়ালা/এন



