বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় অবস্থিত আল খাইর স্কুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় স্কুলে নিয়মিত পাঠদান চলছিল। হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়লে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ভবন ধসের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের একজন মুখপাত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে ২০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৮ জন ছেলে এবং দুজন মেয়ে। তাদের সবাই ছিল শিশু। একই ঘটনায় একজন নারী শিক্ষকেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নেয়।
এর আগে হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার পর ১৭ শিক্ষার্থীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের সবার বয়স ছিল ১৩ বছর বা তার কম। এ ছাড়া আহত ১৭ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির জানিয়েছেন, আল খাইর স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে, স্কুল ভবন ধসে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম। তিনি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে গভর্নর বলেন, নিষ্পাপ শিশুদের মূল্যবান জীবন হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
স্কুল ভবন ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা, নির্মাণের মান কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র: মূল প্রতিবেদনে উল্লেখিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পেশোয়ারের জেলা প্রশাসন ও প্রাদেশিক গভর্নরের বিবৃতি।



