কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পশ্চিম পাশে রেললাইনের কাছ থেকে মো. জয়নাল আবেদীন (২৫) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়। নিহত জয়নাল গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নে। তিনি ওই এলাকার নয়া মিয়ার বড় ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ষোলদাগ ৬৮ পাড়া এলাকায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পশ্চিম পাশে রেললাইনের কাছাকাছি একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা বিষয়টি ভেড়ামারা থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রেলওয়ে পুলিশকে অবহিত করে। পরে পোড়াদহ থেকে রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঢাকা থেকে খুলনায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
নিহতের পরিবারের সদস্য ও রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, জয়নাল আবেদীন ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশে ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি খুলনায়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার তাঁর নিজ বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল।
ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদীন জানান, নিহত ব্যক্তি ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশে চিত্রা ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। ভেড়ামারা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি ছিল রাত পৌনে ২টার দিকে।
নিহতের ভাই জাহিদ হাসান জানান, তাঁর ভাই গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় সুপারভাইজার পদে চাকরি করতেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি অফিস থেকে বের হন। এরপর ঢাকা থেকে ট্রেনে করে খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন।
জাহিদ হাসান আরও জানান, ট্রেনের টিকিট না পাওয়ার কথা তাঁর ভাই স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কীভাবে তিনি ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন এবং কোন পরিস্থিতিতে রেললাইনের পাশে পড়ে যান, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে বিস্তারিত তথ্য ছিল না। বৃহস্পতিবার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর নিজ বাড়িতে ফেরার কথা থাকলেও তার আগেই মৃত্যুর খবর আসে।
ট্রেন থেকে পড়ে মাথায় আঘাতের কথা পুলিশের
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, রেললাইনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়ার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে যান এবং রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
পোড়াদহ রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ হোসাইন জানান, জয়নাল আবেদীনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁদের ধারণা, রাতে চিত্রা ট্রেনে করে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় তিনি ট্রেন থেকে পড়ে যান। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহ নেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারের সদস্যরা রওনা হয়েছেন।
পরিবারে শোক, মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন
একজন তরুণ কর্মজীবী মানুষের এমন মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গাজীপুরে চাকরি করার সুবাদে জয়নাল আবেদীনকে কর্মস্থল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরিবারের কাছে যেতে হতো। বুধবার সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার পর রাতের ট্রেনযাত্রায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনো পরিবারের কাছে স্পষ্ট নয়।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রেন থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়াই তাঁর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ। তবে ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি, ট্রেন থেকে কীভাবে তিনি পড়ে গেলেন এবং দুর্ঘটনাটি কোন স্থানে ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করতে আরও তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে।
রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চলন্ত ট্রেনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয়টিও এ ধরনের ঘটনার পর নতুন করে সামনে আসে। বিশেষ করে রাতের যাত্রায় যাত্রীদের চলাচল, ট্রেনে ওঠানামার নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
তবে জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট অবহেলা বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্য পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।


