খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোছা. চম্পা খাতুন (৩৬) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৪। ২০২৬ সালের ১৭ জুন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এই আভিযানিক কার্যক্রম চালানো হয়। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪, সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এসকে এম সাদমান হোসেন। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান পাটুরিয়ার দিকে আসছে—এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় র্যাব-৪, সিপিসি-৩-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান নেয়। বেলা ১১টার দিকে ফেরিঘাট এলাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে মোছা. চম্পা খাতুনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চম্পা খাতুন তাঁর কাছে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থান থেকে অভিনব উপায়ে লুকিয়ে রাখা মোট ৬ হাজার ৬০০ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোছা. চম্পা খাতুনের স্থায়ী ঠিকানা নাটোর জেলায়। তিনি ওই জেলার গুরুদাসপুর থানার মশিন্দা শিকারপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা। তবে তিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর মিরপুরাধীন কল্যাণপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং সেখান থেকেই মূলত তাঁর এই অবৈধ কার্যক্রমের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন বলে র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবার এই চালানটি বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকা জেলার ধামরাই এলাকা থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে আনা হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা জেলার ধামরাই, সাভার ও আশুলিয়া এলাকা থেকে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে সংগৃহীত এই ইয়াবা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাটসহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিলেন।
অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও অন্যান্য আলামতসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৪, সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এসকে এম সাদমান হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঠিক সময়ে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | তথ্যের বিবরণ | সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও ফ্যাক্টস |
| ১. | গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম | মোছা. চম্পা খাতুন (৩৬) |
| ২. | স্থায়ী ঠিকানা | মশিন্দা শিকারপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা, গুরুদাসপুর, নাটোর। |
| ৩. | বর্তমান বাসস্থান | কল্যাণপুর, মিরপুর, ঢাকা। |
| ৪. | অভিযানের স্থান | পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা, শিবালয়, মানিকগঞ্জ। |
| ৫. | অভিযানের তারিখ ও সময় | ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার (বেলা ১১:০০ ঘটিকা) |
| ৬. | উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ | ৬,৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট |
| ৭. | মাদকের উৎস ও গন্তব্য | ঢাকা জেলার ধামরাই থেকে সংগৃহীত, পাটুরিয়া ঘাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনীত। |
| ৮. | সংলগ্ন অপরাধ প্রবণ এলাকা | ধামরাই, সাভার, আশুলিয়া ও শিবালয়। |
| ৯. | আইনি পদক্ষেপ | শিবালয় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের ও পুলিশে হস্তান্তর। |
| ১০. | নিশ্চিতকারী কর্মকর্তা | মেজর এসকে এম সাদমান হোসেন (কোম্পানি কমান্ডার, র্যাব-৪, সিপিসি-৩) |