পারমাণবিক চুক্তি না করলে ইরানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে ইরানকে বোমা হামলা ও নতুন শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে। রবিবার (৩০ মায়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।র্চ) এনবিসি নিউজ-কে দেও

এটি ছিল, পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে গত সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে অস্বীকার করার পর ট্রাম্পের প্রথম মন্তব্য। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনায় বসছেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা (ইরান) কোনো চুক্তি না করে, তাহলে বোমা হামলা হবে। এমন বোমা হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা কোনো চুক্তি না করে, তাহলে এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, আমি তাদের ওপর দ্বিতীয় দফা শুল্ক আরোপ করব, যেমনটা আমি চার বছর আগে করেছিলাম।’

এছাড়া, গত কয়েক দিন আগে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘তেহরান যদি নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি না হয়, তাহলে ইরানের জন্য খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।’ রবিবারের মন্তব্য তার আগের অবস্থান থেকে আরও কঠোর বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে, ইরান ট্রাম্পের চিঠির জবাবে ওমানের মধ্যস্থতায় একটি প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে। ট্রাম্পের চিঠিতে তেহরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ ও সামরিক হুমকির পর, তারা সরাসরি আলোচনায় বসবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করলেও, পরোক্ষ আলোচনা চলতে পারে।

এদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যেন অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য একটি নির্ভরযোগ্য সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে, যদিও তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর পর থেকে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে, ইরান ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ। যদিও তেহরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

এছাড়া, গত বছর ইরান দুবার ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

 

খবরওয়ালা/এমবি


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *